পরামর্শ

উদ্যোক্তাদের  কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণে করনীয়

জান্নাতুল ফেরদৌস 

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ১৮ আগস্ট ২০২২

উদ্যোক্তাদের  কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণে করনীয়

উদ্যোক্তাদের  কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণে করনীয়

প্রত্যেক সমাজেই কিছু না কিছু কুসংস্কার প্রচলিত আছে।বয়স্ক ব্যক্তিরাই বেশি মানেন এইসব, পরবর্তীতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মনেও ছড়িয়ে পড়ে এ কুসংস্কার।অনেক সময় উদ্যোক্তারা বিশ্বাস না করলেও এসব কুসংস্কার দ্বারা ভেজালের সম্মুখীন হন।

কুসংস্কার থেকে আসলে একটা বিশেষ জিনিস শেখার আছে সবার।এটা এমন একটা অন্ধবিশ্বাস যা মানুষের চিন্তাশক্তিকে ধীরে ধীরে দুর্বল করতে শুরু করে দেয়।যার ফলে মানুষ একটাসময় গিয়ে ভাবতে বাধ্য হয় যে কুসংস্কার হয়তো কোনো অন্ধবিশ্বাস নয়,বরং সত্য।

মানুষ এই কুসংস্কারকে নিজেদের মনে এবং জীবনে এমনভাবে লালন করে যে তাদের সামনে আসা মূল্যবান সুযোগ কিংবা সম্ভাবনাকে তারা হারিয়ে ফেলে।এবং সত্যি বলতে হয়তো ঘুণাক্ষরেও কুসংস্কারে বিশ্বাসী মানুষ কোনোদিন টেরও পায় না সে কি কি ভুল করেছে কিংবা তার ভুল বুঝতে পারলেও ততদিনে আর তা শুধরে নেওয়া সম্ভব হয় না।

ছোটবড় অনেক কুসংস্কারই আমাদের দেশে প্রচলিত আছে।এই যেমন - পেছন থেকে কাউকে ডাকলে তার ক্ষতি হয়,কালো বিড়াল যদি রাস্তার সামনে দিয়ে চলে যায় তাহলে অমঙ্গল ঘটবে,কোনো পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগেভাগে কখনোই ডিম খাওয়া যাবে না।তাহলে পরীক্ষায় ডিম মানে শূণ্য( ০) পেতে হবে ইত্যাদি।

আচ্ছা একজন উদ্যোক্তা হয়ে যদি আপনিও এসব কুসংস্কার বিশ্বাস করেন তাহলে কি হবে?ধরুন আপনি আপনার পণ্যের ডেলিভারি করতে যাচ্ছেন,এরকম সময়ে পিছন থেকে অন্য একজন কাস্টমার আপনাকে ডাকলো।আপনি কি করবেন?কুসংস্কারে আছে কেউ পিছন থেকে ডাকলে ক্ষতি হয়, এটা ভেবে কি কাস্টমারকে পাত্তা না দিয়ে চলে যাবেন?তাহলে আপনার ক্ষতি হবে না?

কাস্টমার হচ্ছে ব্যবসার প্রাণ।এখন একজন উদ্যোক্তা যদি কুসংস্কার মানতে গিয়ে তার কাস্টমারদেরকে পাত্তা না দেয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কাস্টমার অসন্তুষ্ট হবে।কারণ উদ্যোক্তার এমন নেতিবাচক আচরণে কাস্টমার অপমানিত বোধ করবে।ফলস্বরূপ উদ্যোক্তা তার কাস্টমার হারাতে শুরু করবেন।যা বিজনেসকে একসময় ডুবিয়ে দিবে।

আবার ধরুন,আজ আপনার বিজনেস সংক্রান্ত একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে,যাতে অংশ না নিলে আপনার বিরাট বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।এখন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটা কালো বিড়াল আপনার সামনে দিয়ে চলে গেল বলে যদি আপনি মিটিং এ না গিয়ে বাসায় ফেরত চলে আসেন, তাহলে আপনার ক্ষতি হবে নাকি লাভ হবে নিজেই ভাবুন।

এরকম প্রতিটা কুসংস্কারই কোনো না কোনোভাবে উদ্যোক্তাদের ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে।তাই প্রত্যেকেরই এটা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।কিশোর ক্লাসিকস সিরিজ থেকেও উদ্যোক্তারা কুসংস্কার বিরোধী শিক্ষা লাভ করতে পারবেন।এরকম একটা গল্প হলো - 'মান্তা ডায়াবলো'।

এই গল্পের নায়ক ১৬ বছর বয়সী র‍্যামন স্যালাজার যেখানে তার শহরের সবাই ডেভিল ফিশ খ্যাত মান্তা ডায়াবলো কে মরণসম ভয় পেতো,সেখানে সব কুসংস্কারের বিরুদ্ধে গিয়ে র‍্যামন জয় করে নিয়েছিলো "পার্ল অফ হেভেন"।

বিশালাকৃতির সেই মুক্তাটি সংগ্রহ করতে গিয়ে র‍্যামনকে অনেক ভয়-ভীতি,হুমকি দেখানো হয়েছে কিন্তু কিছুতেই ভয় পায়নি সে।ডেভিল ফিশের বাসা হিসেবে যে জায়গাটা বিখ্যাত সেখানেই র‍্যামন খুঁজে পায় পার্ল অফ হেভেনটি।অথচ লোকেরা যদি মান্তা ডায়াবলোকে কুসংস্কারের দরুন ভয় না পেতো তাহলে তারা আরো আগেই স্বপ্নের মুক্তাটি সংগ্রহ করে নিতে পারতো।

আবার র‍্যামনের বাবার অন্ধবিশ্বাস ছিল যে পার্ল অফ হেভেনটি গির্জায় দান করার কারণে ম্যাডোনা তাকে এবং তার পরিবারকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবে।আর এই বিশ্বাস ধরে রাখতে গিয়ে সামুদ্রিক প্রতিকূলতায় জাহাজে জীবন যখন মৃত্যুর সন্নিকটে, তখন পরিস্থিতির মোকাবেলা করার চেষ্টা না করে হাত গুটিয়ে বসে ছিলো সে।আর এই অন্ধবিশ্বাস তাকে যেমন মরতে বাধ্য করেছিল তেমনি র‍্যামনের বাবার জন্য অন্য জাহাজীদেরকেও মরতে হয়েছে।

একজন উদ্যোক্তা যখন কিশোর ক্লাসিকস সিরিজের এই গল্পগুলো নিয়মিত পড়বেন,তিনি শিখবেন কিভাবে চরিত্রগুলোর মতো কুসংস্কার কিংবা অন্যান্য ভুল কাজের ভয়াবহ পরিণাম থেকে বাঁচতে হয়।নিজের মধ্যেও যদি অনুরূপ কোনো দোষ থাকে,তাহলে সেই দোষ শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।যা উদ্যোক্তার জীবন এবং কাজকে আরো সুন্দর করে তুলবে।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং শিক্ষার্থী (মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ) 

সিনথিয়া 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বাধিক জনপ্রিয়