সারাদেশ

বাংলাদেশের ইকো ট্যুরিজমের সম্ভাবনা : পর্ব ৬

মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

প্রকাশিত: ১৭:১০, ৫ আগস্ট ২০২২

বাংলাদেশের ইকো ট্যুরিজমের সম্ভাবনা : পর্ব ৬

বাংলাদেশের ইকো ট্যুরিজমের সম্ভাবনা : পর্ব ৬

ঘ. ঋতুভিত্তিক

বাংলাদেশ ৬  ঋতুর দেশ। প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর ভিন্ন ঋতুতে সাজে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমী। প্রত্যেক ঋতু প্রকৃতিতে নিয়ে আসে বৈচিত্র। গ্রীষ্ম দিয়ে বছর শুরু হয় আর বসন্ত দিয়ে শেষ হয়।

মাঝে অতিবাহিত হয় বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত ও শীতকাল। এসব ঋতুকে কেন্দ্র করে উদযাপন হয় নানা রকম আচার অনুষ্ঠান। ঋতুবেধে হয় ফলফলাদি, খাবার দাবার সহ নানা কিছু।

গ্রীষ্ম ঋতুকে ফলের বিবেচনায় বলায় মধুঋতু। এ ঋতুতে যেন ফলের মহোৎসব। এ মৌসুমে পাওয়া যায় বাঙ্গি, তরমুজ, আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, তালশাঁস, লিচু, খেজুর ইত্যাদি। আরও পাওয়া যায়- পেয়ারা, পেঁপে, কলা, সফেদা সহ নানা ফল। মজার বিষয় হলো এসব ফল সারাদেশে উৎপাদন হলেও স্বাদের রয়েছে পার্থক্য। এ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরায়।

গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো ’পহেলা বৈশাখ’। যা প্রায় প্রত্যেক অঞ্চলে উদযাপন করা হয় ভিন্ন ভাবে।বর্ষা মৌসুমে পানি দিয়ে ভরে যায় হাওর। আকাশ জুড়ে কখনো কালো বা কখনো সাদা মেঘ। মাঝে মাঝে নেমে আসে বৃষ্টি। এসময় ট্রলার আর নৌকা ছেয়ে যায় হাওড়। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণে ব্যস্ত থাকেন স্থানীয় লোকজন। জলরাশি দেখলে মনে হয় অথৈ সাগর। তা দেখে মুহূর্তেই নেচে উঠে মন। তখন অন্য এক জগতের রূপ ন্যায় হাওর অঞ্চল।

বর্ষার মৌসুমে হাওরের জলে নৌকা নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিকেলের শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশে হাওরের রূপ দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন। বর্ষা মৌসুমে যেহেতু হাওরবাসীর অন্যান্য আয় উপার্জন কমে যায় তাই মাছ ধরা আর নৌকা বা ট্রলারে পর্যটকদের ঘুরিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন।

গ্রামীণ অঞ্চলে পানি, বৃষ্টি, কদম আর হিজল দৃশ্য মিলে একসঙ্গে। এ সময় নানা রকম ভাজাপোড়া খাবার করে গৃহীনারা। খিচুড়ি যেন বর্ষার দিনের নিত্য সঙ্গী। চমৎকার মেঘ ও স্পষ্টতার ঋতু হচ্ছে শরৎ। এসময় আকাশ থাকে ঝকঝকে পরিষ্কার। টুকরো টুকরো সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায় নীল আকাশে। গ্রামের খাল বা নদীর দুই তীরে দেখা যায় কাশফুল। এসময় প্রাকৃতিক স্থান গুলো আরও সুন্দর ও পরিষ্কার হয়ে উঠে। শরৎ এর পাকা তালে গৃহীনিরা তৈরি করে তাল পিঠা।

হেমন্ত এলে আনন্দ বিরাজ করে গ্রামে গ্রামে। এ মৗসুমে কৃষকের ঘরে উঠে কাঙ্ক্ষিত সোনালী আমন ধান। তাই ঘরে ঘরে থাকে ঢেঁকির শব্দ আর পিঠার আয়োজন। নাইওর আনা নেওয়াও হয় হেমন্তে। এই মৌসুমের প্রচীন ও সমৃদ্ধ উৎসব ‘নবান্ন’। নানা ধরনের আঞ্চলিক গান-বাজনা, নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে ফুটে উঠে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি। লাঠিখেলা, নাগরদোলা, বাঁশি, সখের চুড়ি, খৈ, মোয়ার পসরা বসে গ্রাম্য মেলায়। বেগুন, শিম, পটল, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ প্রায় ৪০-৪৫ ধরনের ফসল ও সবজি হয় এই মৌসুমে। হেমন্তে প্রাণবন্ত থাকে বাংলাদেশের গ্রাম গুলো।

‘শীত’ কে বলা যায় উৎসব আর আনন্দের ঋতু। শহর গ্রাম সর্বত্র বয়ে বেড়ায় উৎসবের আমেজ। গ্রাম অঞ্চলে রোদের উষ্ণতা পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চলে গল্পগুজবে। রোদের দেখা না মিলে দলবদ্ধ হয়ে আগুন পোহানোর প্রচলনও দেখা যায়। শীতকালে গ্রামে গ্রামে চলে আঞ্চলিক খেলাধুলা। কনকনে শীতেও বাদ যায় না খেলা দেখার আনন্দ।

যাত্রাপালা ও ওরশে জমে উঠে গ্রাম অঞ্চল আর মাহফিলে মাহফিলে ভরে যায় শহর গ্রাম। শীতের পোশাকে আসে বিপুল পরিবর্তন। শাল, মাফলার, কানটুপির ব্যবহার বেড়ে যায় ছোট বড় সকলের মাঝে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রামের নারীরা নিজেরাই তৈরি করে নেন বৈচিত্র্যময় শীতের পোশাক।

শীতে গ্রাম বাংলায় হিড়িক পড়ে বিয়ের উৎসবে। সারা বছরে যাত বিয়ে হয় তার বেশির ভাগ ই হয় এ মৌসুমে। নরম রোদ গায়ে মেখে চড়ুইভাতি, গোল করে বসে লুডু খেলার দৃশ্যও দেখা মিলে শীত মৌসুমে। গ্রামের প্রত্যেক বাড়ি ও শহরের গলিতে তৈরি হয় ভাপা, চিতই, পুলি, পাটিসাপটা সহ বাহারি পিঠা। যা খাওয়া হয় শীতের সকাল সন্ধ্যায়। পিঠার সাথে যোগ হয় খেজুরের গুড়, ঝোলাগুড়, পাটালিগুড়, চিটাগুড়।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং স্বত্বাধিকারী, আওয়ার শেরপুর ডটকম।
 

সিনথিয়া

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বাধিক জনপ্রিয়