নিজে করি

তামান্নার হ্যান্ড পেইন্টের ক্রেতা হয়েছেন মার্কিনী

মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

প্রকাশিত: ১৭:১৭, ২ জুন ২০২২; আপডেট: ১৯:০৪, ২ জুন ২০২২

তামান্নার হ্যান্ড পেইন্টের ক্রেতা হয়েছেন মার্কিনী

তামান্নার হ্যান্ড পেইন্টের ক্রেতা হয়েছেন মার্কিনী

"হ্যান্ড পেইন্টিং শৈল্পিক সৃষ্টি। এটি সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। রঙ তুলির সংমিশ্রণে সাধারণ কাপড়কে রূপান্তর করা যায় অসাধারণ রূপে।" 

আমি সাঈদা তামান্না, ইংরেজী বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে ২০২০ সালে নিজের উদ্যোগ "সুপ্ত প্রয়াস" শুরু করি।  আমার উদ্যোগের মূল ফোকাস হ্যান্ড পেইন্টিং। মূলত ফেব্রিক পেইন্টেড আমার পণ্য বা কাজ। 

স্কুলের মূল সাবজেক্ট গুলোর সাথে ড্রয়িং ছিল আলাদা সাবজেক্ট। শিশু শ্রেণি থেকে ড্রয়িং ক্লাস অনেক উপভোগ করতাম। তাই কাগজের উপর আঁকাআঁকি করতে ভালো লাগতো এবং দিনে দিনে বাড়ছিল ড্রয়িং এর প্রতি ভালোবাসা। তাই চাকরির দিকে না গিয়ে পেইন্টিংয়ে খুজে নিয়েছি নিজের পেশা।

প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে হ্যান্ড পেইন্টিং নিয়ে শেখার সুযোগ হয়নি তবে দক্ষতা বাড়াতে অনলাইনে কয়েকটি পেইন্টিং কোর্স করেছি। এছাড়াও প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথমে কাগজে এবং পরে নকশীকাঁথায় ডিজাইন চর্চা করছিলাম। সেই থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ফেব্রিক পেইন্টিংয়ের  দক্ষতা অর্জন করছি। ড্রয়িং, ডিজাইন এবং কালার কম্বিনেশনসহ সব কিছু নিজের হাতে করি।

ফেব্রিক পেইন্ট করার মধ্যে কিছু সুবিধা আছে। নিজের পছন্দ মতো ডিজাইন, পেইন্ট ও কালার কম্বিনেশন করা যায়। তবে কাস্টমার নিজের পছন্দে কাজ দিলে তার চাহিদা পূরণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।যেহেতু পেইন্টিং আমার শখ। তাই ফেব্রিকে নিজের আইডিয়া ডিজাইনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলি। পরে এগুলো ফটোগ্রাফি করে ফেসবুকে পোস্ট করি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাস্টমাররা সেই ডিজাইন গুলো অর্ডার দেন। তবে কেউ চাইলে কালার পরিবর্তন করে দেওয়ার সুযোগ থাকে।

দেশ বিদেশে আমার কাজ গুলো খুব সুনাম অর্জন করেছে। আমার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ’ওপেরা হাউজ’। প্রবাসি ক্রেতার জন্য এটি করছিলাম শালের উপর৷ শাল পেয়ে তিনি খুবই পছন্দ করেছেন। মেরুন ভিসকসের শালে সোনালূ ফুলের মোটিফে অন্য একটি কাজ করেছি গত শীতে। এটি একজন মার্কিনীর বিস্ময়ের কারণ হয়েছে। এই শালের একটি গল্প আছে যা পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই। আমার একজন আমেরিকান প্রবাসী কাস্টমার সোনালূ ফুল মোটিফের শালটি নিয়েছিলেন। হাতে পেয়ে বাসার সামনে ফটোগ্রাফি করছিলেন। শালটি দেখে ছুটে আসেন একজন মার্কিন নাগরিক। যার নাম ছিল ইসাবেলা। সাথে সাথে তিনি আমার কাস্টমারের কাছে শালটি ক্রয় করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল ২০২১ সালে। শ্রদ্ধেয় রাজিব আহমেদ স্যারের পরামর্শে "শালের উপর শাল" থিমে। মূল শাল টা ছিল খাদি হ্যান্ডলুমের। এটির উপর জামদানি, খেশ, মনীপুরি, ব্লক, স্ক্রীন প্রিন্ট, হাতের কাজ, হ্যান্ড পেইন্ট এবং বাটিক শাল ফুটিয়ে তোলা হয়। ফেসুবকে এটি খুবই সারা ফেলেছে এবং ক্রেতা মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। শাল ছাড়াও আমার হ্যান্ড পেইন্ট সোনালু ও  কাঠগোলাপের মোটিফে শাড়ি, হিজাব এবং জুট কটনের ব্যাগে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

‘একটি ডিজাইন’ কাপড় আর রঙের সাহায্যে বাস্তবিক রূপ দেওয়া, ফটোগ্রাফি ও  কন্টেন্টের মাধ্যমে মার্কেটিং করা, অর্ডার নেয়া, ডেলিভারি নিশ্চিত করানো সহ সবকিছু নিজে করি। এটি মানসিক প্রশান্তি দেয়। এছাড়াও কাস্টমারের সাথে সরাসরি যোগযোগ রাখার সুযোগ হয়।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং স্বত্বাধিকারী, আওয়ার শেরপুর ডটকম।

সিনথিয়া

সর্বাধিক জনপ্রিয়