নিজে করি

মধুবন্তীর সব ধরনের কাজ নিজে করি

মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

প্রকাশিত: ১৮:৩৫, ২৮ মে ২০২২

মধুবন্তীর সব ধরনের কাজ নিজে করি

মধুবন্তীর সব ধরনের কাজ নিজে করি

আমি তানিয়া ইসলাম মধুবন্তী। আমার উদ্যোগের নাম মধুবন্তী। ছোট বেলা থেকে চিত্রাঙ্কন আমার ভালো লাগে। তাই সময় পেলেই চিত্রাঙ্কনে ডুবে থাকি। বড় হওয়ার পর থেকে পোশাকের উপর হ্যান্ডপেইন্ট আমাকে টানতে থাকে।

এটি আমি খুব ভালোবাসি। যখন কোনো কিছুই আমার ভালো লাগে না তখনো ঘন্টার পর ঘন্টা এঁকে যেতে পারি। বিষয়টা স্ট্রেস রিলিফের মত কাজ করে। আর তাই অসম্ভব ভালো লাগা নিয়েই হ্যান্ডপেইন্ট করি।

হ্যান্ডপেইন্ট নিয়ে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। কখনো আর্ট স্কুলের চৌকাঠ অতিক্রম করিনি। যেহেতু ছোট বেলা থেকে আঁকার প্রতি ভালোবাসা সেই থেকে হাতেখড়ি। এরপর নিয়মিত ভাবে অনুশীলন করি। বই পত্র থেকে আর্টের নানা দিক নিয়ে পড়াশোনা করার মাধ্যমে হাতের আয়ত্বে এসেছে তুলির আঁচড়।  সর্বদা চেষ্টা করি আমার ক্রেতাদের চাহিদা মতো চিত্র ফুটিয়ে তোলার। তাই নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পেইন্টিং বেসিক ডেভেলপ করতে চাই।

সাধারণত ডিজাইন ও কালার কম্বিনেশন নিজে করি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাথায় যে থিম আসে তা তুলির ছোয়ায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। এতে সুবিধা হচ্ছে ঠিক যেমন টা চাই তাই প্রকাশ করতে পারি। তবে কিছুক্ষেত্রে ক্রেতার পছন্দের ডিজাইন বা থিমে কাজ করি তবে একদম নিজস্ব মোটিফে। অন্যের অনুপ্রেরণাতেও কিছু কাজ হয়েছে, যেমন ই-ক্যাব (ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এর সাবেক এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজিব আহমেদ স্যারের পরামর্শে সিল্ক শাড়িতে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কান্তজীউ মন্দির  এঁকেছিলাম। কাজ টি অনেক সুনাম কুড়িয়েছে।

নিজের কাজ নিজে করার মাঝে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো  আমি যা করতে চাই তাই করতে পারি। এখানে কাউকে কিছু বোঝাতে হয় না,  ডিজাইন নষ্ট হবার ভয় কম থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও নিজের কাজ নিজে করার মাঝে স্বাধীনতা রয়েছে যা শিল্পীসত্তার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  

আমার বেশির ভাগ কাজ নিজের কল্পনা থেকে করা। ক্রেতা কোন ডিজাইন দিলে নিজের চাহিদা মতো করতে পারবো কিনা তা জেনে নেই। এতে করে কালার কম্বিনেশন টা সবচেয়ে ভালো হয়। তারাও আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। তাদের সহযোগীতা আর বিশ্বাস কাজটা মনোযোগ সহকারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে করতে উৎসাহ দেয়।  
আমি এখন পর্যন্ত একদম নিজের ডিজাইনে যে কাজ গুলো শেষ করেছি এরমধ্যে চেরি ব্লসম, মধুমঞ্জরি, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া,  শরতের কাশফুল ও শিউলিফুলের ডিজাইন গুলো বেশ প্রশংসা পেয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হলো প্রতিটা কাজ যতবারে করি প্রতবার নতুনত্ব আসে। ক্রেতারা এতে আরো বেশি খুশী হন।

হ্যান্ডপেইন্ট একটা শিল্প। এর জন্য শিল্পীর কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রয়োজন।  যেহেতু পেইন্টিং সময়সাপেক্ষ বিষয় তাই যারা একদম নিজের হাতে পোশাকে পেইন্ট করে তাদের জন্য পুরো বিষয়টা অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমার প্রতিষ্ঠান মধুবন্তীর সব ধরনের কাজ নিজে করি।

লেখকঃ  ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট ডটকম এবং আওয়ার শেরপুর ডটকম। 

 

সিনথিয়া

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বাধিক জনপ্রিয়