ই-কমার্স

প্রত্যেক ডেলিভারি একটা চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্য

মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ৬ আগস্ট ২০২২

প্রত্যেক ডেলিভারি একটা চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্য

প্রত্যেক ডেলিভারি একটা চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্য

কেক আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার। বিশ্বজুড়ে কেক তৈরি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রচুর ব্র্যান্ড। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। রাজধানীসহ দেশের জেলা শহরগুলোতে দেখা মিলে কেকের বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড।

ইন্টারনেট ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় বাড়ছে এফ-কমার্স উদ্যোক্তা। তাদের কেউ কেউ ঘরোয়া ভাবে কেক তৈরি করে বিক্রি করছে অনলাইনে। তাই কেবল ‘কেক’ নিয়েই গড়ে উঠছে প্রচুর অনলাইন শপ। তাদের একজন পারফেক্ট সল্টের স্বত্বাধিকারী নাজনীন। সম্প্রতি কথা হয় ইপ্রফিটের সাথে।

হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন বেকার তথা কেক উদ্যোক্তা শুরু করেন অনলাইন ব্যবসা। ক্রেতাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন ঘরোয়া ভাবে নিজের তৈরি কেক। শুরুর দিকে অর্ডার ও কাঁচা মাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে ডেলিভারি প্রতিনিধির হাতে কেক তোলে দেওয়া পর্যন্ত সবই করেন উদ্যোক্তা নিজে। তাই তাদের বলা হয়ে থাকে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’। এসব উদ্যোক্তাদের জন্য ব্র্যান্ডিং কেকে অভ্যস্ত ক্রেতাদের হোম মেড কেকে অভ্যস্ত করানো একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।

হোম মেড উদ্যোক্তারা কেবল এক বা একাধীক ক্রেতার কেক তৈরির উপকরণ ক্রয় করেন। তাদের দৈনন্দিন অর্ডার ও বিক্রির পরিমাণও কম। তাই তাদের খরচের পরিমাণ তুলনামূলত বেড়ে যায়। কারণ তারা পাইকারি দরে কাঁচা মাল ক্রয়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু তারা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে ঘরোয়া পরিবেশে কেক উৎপাদন করেন। যার ফলে স্বাদের মাত্র বেড়ে যায়।

ক্রেতাদের কেউ কেউ ব্র্যান্ডের কেকের সাথে দামের তুলনা করেন। তবে হোম মেড কেক নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তারা লেগে থাকার কারণে মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তামনে ক্রেতারা প্রাধান্য দেয় স্বাস্থ্যকর খাবারে। যেন ছোটবড় সবাই খেতে পারে এবং স্বাস্থ্যগত জটিলতা থেকে মুক্ত থাকে।

দেশে হোম মেড উদ্যোক্তাদের অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ক্রেতার হতে কেক অক্ষত পৌঁছে দেওয়া। যথা সময়ে ডেলিভারি ম্যান না পাওয়া, চার্জ কয়েকগুণ বেশি ব্যয় হওয়া, ডেলিভারি ম্যানের অসাবধানতা বা আবহাওয়ার কারণে কেক গলে যাওয়া ইত্যাদি চ্যালেঞ্জও কম নয়।

এসব অসুবিধা হলে ক্রেতার আস্থা এবং সন্তুষ্টি ধরে রাখতে নিজে ভর্তুকি দেন নাজনীন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সহযোগী হয় ক্রেতারাও। এসব অসুবিধা উপেক্ষা করে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে নিয়েমিত শ্রম ও সময় দেন তিনি। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ডেলিভারি আলাদা একটা চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্য।

তবে দিন দিন হোম মেইড কেক সর্ব মহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে। যারা একবার হোম মেড কেক খায়, তারা পরবর্তীতে হোম মেড কেকই খায়। আগে জন্মদিনে কেকের ব্যবহার বেশি হলেও বর্তমানে প্রায় সকল খুশির অনুষ্ঠানে স্থায় পায় কেক। তাই এই কেক এর সাথে জড়িয়ে থাকে ক্রেতার গভীর আবেগ। এই আবেগগুলো অনেক মূল্যাবান উদ্যোক্তা নাজনীনের কাছে।

ক্রেতাদের জন্য হোম মেড কেকের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। তারা নিজের পছন্দের নকশা, রং, উপকরণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে কেক নিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্রেতার অনুভূতির দরজা দিয়ে প্রবেশ করে জায়গা করে নেন মনের ভিতর। তাই সন্তুষ্ট হয়ে ক্রেতারা ফিরে আসছে বার বার এবং নতুন ক্রেতা রেফার  করতেও ভূমিকা রাখে। এ কারণে নাজনীন দেখতে পান প্রচুর সম্ভাবনা। 

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং স্বত্বাধিকারী, আওয়ার শেরপুর ডটকম।
 

সিনথিয়া

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বাধিক জনপ্রিয়