উদ্যোক্তা

উদ্যোক্তাদের নিজ কাজে দক্ষ হওয়ার গুরুত্ব

জান্নাতুল ফেরদৌস 

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১৮ আগস্ট ২০২২

উদ্যোক্তাদের নিজ কাজে দক্ষ হওয়ার গুরুত্ব

উদ্যোক্তাদের নিজ কাজে দক্ষ হওয়ার গুরুত্ব 

কাজ করার ক্ষেত্রে মানুষের দক্ষতা অনেক বেশি জরুরী।উদ্যোক্তারা যখন ছোটখাটো বিষয়ে অন্যদের উপর নির্ভর করা বন্ধ করে নিয়মিত কাজ করে যাবেন, ঠিক তখন থেকেই তাদের প্রকৃত উন্নতি শুরু হবে।

ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি অনলাইন নির্ভর হওয়ায় বেকারদের জন্য উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করা অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে।কারণ এখানে অফলাইনের মতো লাখ লাখ টাকা ইনভেস্ট করতে হয় না।নামমাত্র মুনাফা নিয়েই একজন ব্যক্তি নিজের উদ্যোগ শুরু করতে পারেন।

আর যেহেতু একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে নিজের উদ্যোগের লিডার হয়ে সবকিছু সামলাতে হয়,তাই তার বিভিন্ন দিকে দক্ষ হওয়ার দরকার আছে।এই যেমন -পণ্যের সোর্সিং নিজেই খুঁজে বের করা,সেখানকার মানুষদের সাথে ডিল করা,তারপর পণ্যের ফটোগ্রাফি করা,প্যাকেজিং করা,ডেলিভারির ব্যাপারে সচেতন থাকা,কাস্টমারের সাথে ডিল করা ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়।

এতসব দিক নিজের সামলানোর কারণ হচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাজেটের পরিমাণ থাকে স্বল্প।এই অল্প বাজেটে বিজনেসের বিভিন্ন কাজের জন্য কর্মী রাখা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য সম্ভব হয় না।তার উপর তার সেলও শুরুতে খুব একটা হয় না।এসব দিক বিবেচনা করে উদ্যোক্তাদেরকে নিজের কাজগুলো নিজে করার অভ্যাস করতে হয়।

আর অনলাইন বিজনেসে বিভিন্ন দিক থাকে এবং সেগুলোর প্রতিটাতেই সুন্দর প্রেজেন্টেশন থাকতে হয়।যেমন - পণ্যের ফটোগ্রাফি, প্যাকেজিং এই বিষয়গুলো উদ্যোক্তার জন্য করা একটু কঠিন হতে পারে।কারণ সবাই সবকাজে পারফেক্ট হয় না,উদ্যোক্তারাও নয়।

কিন্তু তারপরেও পণ্যের প্রেজেন্টেশন করার সময় একটা সুন্দর ফটোগ্রাফি পণ্যের প্রতি কাস্টমারের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে।আর পণ্যের প্যাকেজিং যদি সুন্দর হয় তাহলে কাস্টমার পণ্যটি হাতে পাওয়ার পরে উদ্যোক্তার কাজে সন্তুষ্টি লাভ করবেন।

উদ্যোক্তাদের জন্য এসব কাজে বেসিক নলেজটুকু আয়ত্ত্বে রাখতে হবে।যাতে করে নিজে সব সুন্দর এবং পরিপাটি রূপে হ্যান্ডেল করতে পারেন।কি হবে যদি উদ্যোক্তা অন্য কারোর উপর এসব ব্যাপারে নির্ভর করেন তো?

ধরুন, একজন শাড়ির উদ্যোক্তা নিজে পারেন না বলে তার এক প্রতিবেশী বোনের মাধ্যমে শাড়ির ফটোগ্রাফি করান।এখন সেই বোন দেখা যায় উদ্যোক্তার প্রয়োজনের সময় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন।আবার কখনো কখনো উদ্যোক্তার প্রতি বিরক্তও হন।তাছাড়া বোনের পেছনে ছবি তোলার জন্য ঘুরতে ঘুরতে উদ্যোক্তা নিজেও সময়মতো নিজের কাজগুলো করতে পারেন না।

এরকম সমস্যা অনেক উদ্যোক্তার মধ্যেই আছে।এই যে অন্যের উপর আপনার নির্ভরশীলতা - এটি কি আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না?একেতো আপনি সময়মতো ফটোগ্রাফি করতে না পারার দরুন আপডেট থাকতে পারছেন না,অন্যদিকে অন্যের বিরক্তির কারণ হচ্ছেন।এরচেয়ে ভালো হবে যদি আপনি নিজেই ফটোগ্রাফি শিখে নেন।

এর জন্য আপনি অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স করতে পারেন এই বিষয়ের উপর।এছাড়া বিনামূল্যে 'ডিজিটাল স্কিলস ফর বাংলাদেশ' ফেইসবুক গ্রুপে সময় দিয়ে ফটোগ্রাফি বিষয়ে সার্চ করে পড়াশোনা করে নিয়মকানুন শিখে নিজেই চর্চা করে দক্ষ হতে পারেন।আর এটাই সবচেয়ে ভালো হবে।আপনাকে আর অন্যের উপর আশা করে নিজের কাজ ফেলে বসে থাকতে হবে না।

তারপর নিয়মিত চর্চা করতে করতে ফটোগ্রাফির মান এমনিতেই সুন্দর হয়ে যাবে।অন্যের উপর ভরসা করে বসে থাকলে নিজের ক্ষতিটাই কেবল হয়।আর এর সুন্দর উদাহরণ হতে পারে কিশোর ক্লাসিকস সিরিজের 'ব্লিক হাউজ' গল্পটি।

এই গল্পে 'জার্নডিস এন্ড জার্নডিস' কেসের একজন দাবিদার রিচার্ড কারস্টোন। সে ভেবেছিল কেসের সমাপ্তিতে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবে সে।আর এর জন্য যখন যে কাজে গিয়েছে কোনোটাতেই স্থায়ী হতে পারেনি।উকিলদের উপর ভরসা করে বসে থাকার কারণে জীবনে কোনো কাজে দক্ষ হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি রিচার্ড।

শেষপর্যন্ত কেসে জিতে গেলেও উকিলদের ভাগ বাটোয়ারার কারণে রিচার্ড সামান্য সম্পদও পায়নি।উল্টো নিজের যা ছিল সব হারিয়ে ফতুর হতে হয়েছে এবং সেই সাথে অনিয়ম আর তীব্র হতাশা তাকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছে।

কিন্তু রিচার্ড যদি উকিলদের আশায় বসে না থেকে নিজে পরিশ্রম করে কোনো কাজে দক্ষ হতো ,তাহলে শেষসময়ে এসে তাকে হতাশ হতে হতো না।সে একটা সুন্দর জীবন নিয়ে বাঁচতে পারতো।

এই গল্পটা উদ্যোক্তাদেরকে অন্যের উপর আশা করে বসে থাকার পরিণাম সম্পর্কে অবগত করে।সম্ভব হলে নিজের কাজগুলো নিজে করাটাই সবচেয়ে ভালো। এতে বাড়তি খরচ যেমন হবে না,তেমনি কারোর জন্য বসে থেকে সময় নষ্ট হবে না,নিজেকে অন্যদের বিরক্তির কারণ হিসেবেও দেখতে হবে না।ধীরে ধীরে যখন উদ্যোক্তা কর্মী রাখার মতো যোগ্যতা অর্জন করবেন,তখন না হয় কর্মীদের উপরই নির্ভর করবেন।এতে আর কাজের ক্ষতি হবে না।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং শিক্ষার্থী (মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ) 

সিনথিয়া 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বাধিক জনপ্রিয়