সারাবিশ্ব

ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান হালচাল

অমৃতা জয়া

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ১৭ জুলাই ২০২২

ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান হালচাল

ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান হালচাল

পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে একটি হলো ভারতের অর্থনীতি। বিজনেস ইনসাইডার ইন্ডিয়া এর তথ্য অনুসারে, ২.৬৬ ট্রিলিয়ন ডলারের নমিলান জিডিপি নিয়ে ভারত বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। বৃহৎ আয়তন ও বিশাল জনসংখ্যার দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি নিঃসন্দেহে এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

ভারতের অর্থনীতি বৈচিত্র্যময়, তবে ঐতিহ্যগতভাবে গ্রাম-ভিত্তিক কৃষিকাজ এখানে প্রাধান্য পেয়ে এসেছে। বর্তমানে আধুনিক কৃষি ও হস্তশিল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন আধুনিক শিল্প ও সেবা খাতগুলোও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান ১৫.৪ শতাংশ, শিল্প খাতের ২৩ শতাংশ এবং ৬১.৫ শতাংশ অবদান রাখছে এর দ্রুত বর্ধনশীল, শক্তিশালী সেবা খাত। 

মোট জিডিপি অনুসারে বর্তমানে দেশটির মাথাপিছু গড় আয় প্রায় ২.৫২ হাজার ডলারে পৌছেছে। ১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বানিজ্য সংস্থার (WTO) অন্তর্ভুক্ত ভারত বর্তমানে বিশ্বের ১৪ তম বৃহৎ আমদানীকারক এবং ২১ তম বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ। 

চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিকে বহুলাংশে ব্যহত করলেও ওইসিডি (OECD) অনুমান করছে যে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৬.৯ শতাংশ হারে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬.৪ শতাংশ হারে প্রবিদ্ধি লাভ করবে। কোভিডের দ্বিতীয় বলয়ে বিপর্যস্ত দেশটির অর্থনীতি ২০২০-২১ অর্থবছরে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেলেও গত অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরে এই প্রবিদ্ধির হার ছিল ৮.৭ শতাংশ যা বিগত ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

তবে এখনও ভারতকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব, বিনিয়োগের অপ্রতুলতা, সুদের উচ্চ হার ও শ্রমবাজারে অস্থিরতার মতো কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। উপরন্তু চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তবতায় খাদ্য ও জ্বালানী খাতে ব্যয়ের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধিতে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ভারতকে। তবে তা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন চলমান এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ভারতের অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবে। 

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষাপটে আইএমএফ (IMF) সম্প্রতি এক রিপোর্টে বলেছে যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে সবথেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে স্বল্প আয়ের দেশসমূহ। বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানী সঙ্কটের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে এশিয়া ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্ন আয়ের দেশগুলো। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবিদ্ধির হার ২০২১ অর্থবছরে ৬.১ থাকলেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ৩.৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে ভারতের জন্য আশার কথা হচ্ছে যে তাদের অর্থনীতির প্রবিদ্ধির হার অনেকটাই বিপরীতমুখী। 

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক পরিস্থিতি বেশ অনেকটাই স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। যেখানে চলতি অর্থবছরে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৭ শতাংশে সেখানে আইএফএম এর তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালের এপ্রিলে ভারতের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৬.১ শতাংশ। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কৃষি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণসহ খাদ্য ও কাঁচামাল সঙ্কট প্রকট আকার ধারন করেছে যার ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্থান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কৃষি-খাদ্য ও জ্বালানী পণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এছাড়া সময়ের সাথে সাথে দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে খাদ্য পণ্য ও জ্বালানীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চ মূল্য এবং কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা নিয়ে অনেক দেশই ইতিমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। 

এক্ষেত্রে ভারতের অর্থনীতি সুসংহত আর্থিক বাজার নিয়ন্ত্রন প্রক্রিয়ার ফলে তুলনামুলক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করেন। তাদের মতে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থান আগামীতে আরো জোরালো হতে যাচ্ছে। তবে যেহেতু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিভিন্ন সূচকের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় তাই এ প্রবিদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনার চিত্রটি তৈরিতে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায়।

সুত্রঃ
https://www.wto.org/english/res_e/statis_e/wts2021_e/wts2021_e.pdf

https://www.imf.org/en/Countries/IND#countrydata

https://en.wikipedia.org/wiki/Economy_of_India

https://www.business-standard.com/article/current-affairs/india-retains-top-spot-as-fastest-growing-major-economy-un-report-122051900021_1.html

সিনথিয়া

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বাধিক জনপ্রিয়