স্বাক্ষাতকার

কাওসার মিনহাজের অনলাইন কেনাকাটা

মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ২৯ জুলাই ২০২২; আপডেট: ১৮:৪৫, ২৯ জুলাই ২০২২

কাওসার মিনহাজের অনলাইন কেনাকাটা

কাওসার মিনহাজের অনলাইন কেনাকাটা

কাউছার মিনহাজের বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। একসময় দাপটের সাথে সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতে। বার্ধক্য জনিত কারণে রাজনীতি থেকে অবসর নিলেও দরিদ্র শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত ’ডে-কেয়ার সেন্টার’ এ চেয়ারম্যান পদে আছেন।

শিশুদের দেখাশোনা, বইপত্র পড়েই দিন কাটছে মিসেস মিনহাজের। তার বয়সী বয়োবৃদ্ধরা সকাল সন্ধ্যায় হেঁটে গিয়ে সুপার শপ আর শপিং মলে কেনাকাটা করলেও মিসেস মিনহাজের গল্প ভিন্ন। তিনি পরিবারের অনেক কিছুই কেনাকাটা করেন অনলাইনে। ইপ্রফিটে কাস্টমার অভিজ্ঞতার ধারাবাহিক পর্বের ৭ম পর্ব।

বেশির ভাগ বয়োবৃদ্ধরা দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, আপনি ব্যতীক্রম। অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত হলেন কিভাবে? তা জানতে চেয়েছিলাম কাউছার মিনহাজের কাছে। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় জ্যাম তাই গাড়িতে বসে থাকতে হয় লম্বা সময় ধরে। এতে করে সময় অপচয় হয় এবং বিরক্তি লাগে। আর আমার ইদানিং পায়ে ব্যাথা। তাই শপিং মলে হাঁটাহাঁটি করতে অসুবিধা হয়। এসব কারনেই অনলাইন কেনাকাটা করি’।

কাউছার মিনহাজের কেনাকাটার অভিজ্ঞতা জানতে প্রশ্ন করেছিলাম আপনি ছবিতে দেখে বা বর্ণনা পড়ে যেমনটা অর্ডার করেন হাতে পাওয়ার পর তা মিলে? এ প্রশ্নের জবাব ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় ভাবেই দিয়েছেন এই অনলাইন ক্রেতা। তিনি বলেন, আমি যেমনটা অর্ডার দেই অনেক সময় মিলে। তাই যখন যা ক্রয় করতে মন চায় তাই অর্ডার করি। আবার অনেক সময় মিলে না। কেউ কেউ দেখায় একটা দেয় আরেকটা। একবার চাদর কিনে ঠকেছিও। তাই যাদের থেকে একবার কেনার পর অভিজ্ঞতা ভালো হয়, তাদেরকে মনে রাখি এবং পরবর্তীতে সেই পণ্য প্রয়োজন হলে তাকে ফোন করি। মেয়েদের বললে ওরাই অর্ডার করে ফেলে তাই মাঝে মাঝে নাতনিকে জিজ্ঞেস করে অর্ডার করি।

অনলাইনে কেনাকাটায় অনেক সময় বাঁচে। পরিবহনেরও ঝামেলা থাকে না। তাই তিনি অনলাইনে কেনাকাটা করেন। কোন প্রতিষ্ঠানে প্রথমবার কেনাকাটা করলে নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অর্ডার দেন। আর পরিচিত উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান থেকে কেনাকাটা করলে ব্যাংক বা বিকাশে অগ্রিম বিল পরিশোধ করেন।

প্রশ্ন করেছিলাম আপনি অনলাইনে যেসব পণ্য কেনাকাটা করেছেন তা পরিবারের অন্যরা কখনো ব্যবহার করেছে? তাদের মন্তব্য কী? তখন তিনি জানালেন, হ্যাঁ সবার জন্যই কম বেশি কেনাকাটা করা হয়। মোটামুটি সন্তুষ্ট। আসলে শুধু নিজের জন্য নয় কেনাকাটা করি যেন সকলের প্রয়োজন পূরণ হয়। যেমন, অনলাইনে তুলশীমালা চাল অর্ডার করি। তা রান্না হলে সবাই মিলে খাই।

অনলাইন কেনাকাটার কোন স্মৃতি জানতে চাই তখন তিনি বললেন, তোমার আঙ্কেল পাঞ্জাবি অর্ডার করে আর ওরা মেয়েদের পুরাতন জামা কাপড় পাঠিয়ে দেয়। তাই তিনি (আঙ্কেল) এখন অর্ডার দিতে চান না।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে প্রশ্ন করেছিলাম ফেসবুক নাকি ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? কাউছার মিনহাজ বলেন, ফেসবুকে কেনাকাটা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে বা ফোন দিয়ে বলে দেওয়া যায়। ওয়েবসাইটের চেয়ে ফেসবুকই সহজ মনে হয়।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং স্বত্বাধিকারী, আওয়ার শেরপুর ডটকম।

সিনথিয়া

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বাধিক জনপ্রিয়