স্বাক্ষাতকার

ডাক্তার হয়েও তিনি উদ্যোক্তা

মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

প্রকাশিত: ১৮:৩১, ৫ আগস্ট ২০২২

ডাক্তার হয়েও তিনি উদ্যোক্তা

ডাক্তার হয়েও তিনি উদ্যোক্তা

ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া। ফিজিওথেরাপিতে স্নাতক পর্ব শেষ করার মাধ্যমে তা পূরণ হলেও শুরু হয় নতুন ইচ্ছা। আর তাতে সায় দিয়ে হয়ে উঠেন উদ্যোক্তা।

নিজের জমানো অর্থ দিয়ে মুক্তার গয়না নিয়ে অনলাইনে কাজ করছেন রত্নমনির স্বত্বাধিকারী মাহবুবা আফরোজ প্রীতি। সম্প্রতি ইপ্রফিটের সাথে 'একান্ত আলাপ'-এ উঠে আসে প্রীতির গল্প। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইপ্রফিটের ফ্রিল্যান্সার লেখক মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

দেলোয়ার : কেমন আছেন?
প্রীতি : আলহামদুলিল্লাহ। সৃষ্টিকর্তার অশেষ দয়ায় ভালোই আছি।

দেলোয়ার : আপনার লেখাপড়া সম্পর্কে জানতে চাই।
প্রীতি : ২০২০ সালে ল্যাবএইড গ্রুপের স্টেট কলেজ অফ হেল্থ সায়েন্স থেকে ফিজিওথেরাপিতে স্নাতক শেষ করেছি।

দেলোয়ার : ব্যবসায় আগ্রহী হলেন কিভাবে?
প্রীতি : সবাই তো পড়াশোনা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়। তাই ছোটবেলা থেকে আমিও চেয়েছি ডাক্তার হতে। বড় হবার সাথে ইচ্ছায় পরিবর্তন আসে। এমন কিছু করার বাসনা তৈরি হয় যেন আলাদা পরিচয় তৈরি করতে পারি। তখন আসলে ব্যবসার কথাই মাথায় এসেছে। এরপর ২০১৫ তে উদ্যোগ শুরু করি এবং ২০২১ এ নতুন পণ্য নিয়ে আরেকটু বড় করে কাজ শুরু করেছি। এতে পারিবারিক ভাবে বড় বোন আর স্বামীর উৎসাহ পাই। তাছাড়াও আমার বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী এবং আমার স্বামীও ব্যবসায়ী।

দেলোয়ার : রত্নমনিতে কি কি পাওয়া যায়?
প্রীতি : রত্নমনি একটি গয়নার উদ্যোগ। আমাদের মূলপণ্য মুক্তার গয়না। এছাড়াও দেশীয় কারিগরের তৈরি মেটালের গয়না, হাতের (গোলাপ) বালা, পলা চুড়ি সহ দৈনন্দিন ব্যবহারের বেশ কিছু দেশীয় গয়নার সমাহার।

দেলোয়ার : গ্রাহকদের ফিডব্যাক কেমন?
প্রীতি : গ্রাহকদের ফিডব্যাক সন্তোষজনক। আলহামদুলিল্লাহ। বেশিরভাগ গ্রাহকই পণ্য হাতে পাওয়ার পর ইনবক্সে গুনগত মানের প্রশংসা করেন। কেউ কেউ দেশি গয়না প্রবাসী বন্ধুদের উপহার দিতে নিয়ে গেছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি এবং উৎসাহ। আমার ৬০ ভাগের বেশি কাস্টমার বার বার কেনাকাটা করছেন রত্নমনিতে। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি। আমি বিশ্বাস করি পণ্যের মান যেমন টা চেয়েছি তেমন টা ধরে রাখতে পেরেছি এবং গ্রাহকের চাহিদা মতো সেবা দিতে পেরেছি। যার ফলে তারা পণ্যের মান ও সার্ভিসে সন্তুষ্ট হয়ে বার বার কেনাকাটা করছেন রত্নমনিতে।

দেলোয়ার : কার মাথা থেকে আসে ডিজাইনগুলো?
প্রীতি : অনেক সময় আমি নিজেই কারিগরকে ডিজাইন দেই। যদি আমার পছন্দ হয় তাহলে কোন কোন সময় তারা (কারিগর) নিজস্ব ডিজাইনে কাজ করে। আবার কাস্টমারের চাহিদা আর বাজেট অনুযায়ীও ডিজাইনে কিছুটা পরিবর্তন  আসে।  

দেলোয়ার : প্রতিষ্ঠানের সবদিক সচল রাখেন কীভাবে?
প্রীতি : এতদিন আমি একাই দেখতাম সবকিছু। পড়াশোনার পাশাপাশি একা সবকিছু সামাল দেওয়া সত্যি কঠিন ছিল। বর্তমানে বড় বোনের মেয়ে আয়েশা পেজের কিছু কাজে সহযোগিতা করছে। অর্ডার পাওয়ার পর তা কারিগরকে বুঝিয়ে দেওয়া এবং সেগুলো সময় মতো সংগ্রহের কাজে সহযোগিতা করে আমার স্বামী। বিশেষ করে মুক্তার যাবতীয় বিষয়ে আমার স্বামীই সহযোগিতা করে।

দেলোয়ার : বিনিয়োগ করছেন কীভাবে?
প্রীতি : ব্যবসার মূলই হচ্ছে বিনিয়োগ। আমার স্বামী এবং আমি নিজেই রত্নমনির বিনিয়োগকারী। এর পিছনে রয়েছে অনেক ছোট ছোট গল্প। আমি টাকা জমাতে খুব পছন্দ করি। তাই দেখা যেত কোন উপহার পেলে সেই টাকা জমিয়ে রাখতাম। জমানো টাকার সাথে আমার স্বামীর কিছু টাকা একসাথে বিনিয়োগ করি। যেহেতু মুক্তা নিয়ে কাজ। তাই প্রাথমিক বিনিয়োগটা একটু বেশিই করতে হয়েছে। এরপর তো ব্যবসা চলছে আলহামদুলিল্লাহ এবং বিনিয়োগও সেখান থেকেই চলে আসছে।

দেলোয়ার : রত্নমনি নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?
প্রীতি : দেশের নারীরা গয়নার প্রতি দুর্বল। সোনা-রূপার প্রচলন থাকলেও মুক্তার প্রতি আকর্ষণ নেই এমন নারীর সংখ্যা খুবই কম। আদিকাল থেকেই মুক্তার ব্যবহার চলছে। ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে ব্যবহার কিছুটা মন্থর হয়েছে। মুক্তার গয়না নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণাও আছে। আমি চাই কনটেন্টের মাধ্যমে ভুল ধারনা দূর করতে এবং আসল মুক্তার প্রচলন বাড়াতে। দেশীয় গয়না আকর্ষনীয় হতে পারে সেটা তুলে ধরতে চাই এবং স্বল্প মূল্যে সেটা সবার সামনে নিয়ে আসতে চাই, এটাই আমার স্বপ্ন।

দেলোয়ার : কখনো অংশিদার নেওয়ার ইচ্ছা আছে?
প্রীতি : অংশিদার নেওয়ার বিষয়টা এখনো ভাবিনি। তবে চিন্তা আছে আমার কাজের পরিধি বাড়ানোর। তখন হয়তো অংশিদার নিতে পারি।

দেলোয়ার : আপনার সার্বিক সাফল্য কামনা করি। ইপ্রফিটকে সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
প্রীতি : ইপ্রফিট এবং আপনাকেও বিশেষ ধন্যবাদ আমার ইচ্ছা, স্বপ্ন ও উদ্যোগ নিয়ে বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং স্বত্বাধিকারী, আওয়ার শেরপুর ডটকম।

সিনথিয়া

সর্বাধিক জনপ্রিয়