প্রশ্নোত্তর

কেন উদ্যোক্তাদের নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ?

জান্নাতুল ফেরদৌস 

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ১৮ আগস্ট ২০২২

কেন উদ্যোক্তাদের নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ?

কেন উদ্যোক্তাদের নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ?

ভালো কাজে সবসময় বাধা আসে।একজন উদ্যোক্তা যখন নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে তখন আশেপাশের অনেকেই তাকে ডিমোটিভেট করার করতে উঠে পড়ে লাগে।

শুরুর দিকে উদ্যোক্তাদের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবেলা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।কেননা একদিকে বিজনেসে নতুন প্রবেশ অন্যদিকে কিছু বুঝে উঠার আগেই পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নেগেটিভ কথা উদ্যোক্তাদের মনকে দুর্বল করে দেয়।

এছাড়াও বিজনেসে রয়েছে অনেক ঝামেলা, ভেজাল।এখানে টিকে থাকতে হলে সবদিক উদ্যোক্তাদের একাই সামলে নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।তাই কেউ নেগেটিভ কথা বললে মন ভেঙে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

এতসব মন খারাপের ভিড়ে উদ্যোক্তাদের জন্য কিশোর ক্লাসিকস হতে পারে সান্ত্বনাদাতা।এই সিরিজের একটা বিশেষ গল্প হলো অ্যালান মার্শালের 'আমিও পারি'।গল্পটাতে  দেখা যায় এক পায়ের সক্ষমতা হারানো ছোট্ট অ্যালান নিজেকে কখনোই পঙ্গু কিংবা খোঁড়া মনে করেনি।

সে নিজের দুর্বলতাকে শক্তি বানিয়ে জীবনে তার চলার পথকে সহজ করে তুলেছিল।যেখানে আমরা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেখি তারা অন্যদের সহানুভূতি, করুণা,দয়া নিয়ে বাঁচে।তাদের মনে হয় তারা জীবনে কোনোদিনই সুস্থ মানুষদের মতো সফল হতে পারবে না।তার উপর নিত্যদিন আশেপাশের মানুষদের থেকে এমনকি নিজেদের কাছের মানুষদের কাছ থেকে যখন নেগেটিভ কথাবার্তা শোনে,তখন তাদের মন থেকে ভালো কিছু করার ইচ্ছা হারিয়ে যায়।

তারা ভাবতে শুরু করে সত্যি সত্যিই হয়তো তাদের দ্বারা কোনো উন্নতি সম্ভব নয়।কিন্তু ছোট্ট অ্যালানের জীবন সম্পর্কে যখন উদ্যোক্তারা জানতে পারবে তখন তারাও শিখবে লোকে কি ভাবছে কিংবা বলছে তাতে কোনো মানুষ পিছিয়ে থাকে না।

একজন মানুষ নিজে কতটা আগ্রহী নিজের উন্নতির প্রতি, কতটা ডেডিকেটেড হতে পারবে নিজের ভালোর জন্য তার উপর নির্ভর করে মানুষের অগ্রগতি।তার শারীরিক কিংবা পারিপার্শ্বিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন।এরকমটা অ্যালানের জীবনে আমরা দেখতে পাই।অ্যালানের পায়ের দুর্বলতা দেখে অনেকেই অ্যালানকে খোঁড়া ভেবে সহানুভূতি দেখানোর চেষ্টা করেছে।কিন্তু অ্যালান কখনোই এসবে পাত্তা দেয়নি।

সে নিজের খোঁড়া পা নিয়েই পাহাড়ে চড়েছে,ঘুরে বেড়িয়েছে,সাঁতার শিখেছে,খেলাধুলা করেছে,গাছে চড়েছে এমনকি ঘোড়া পর্যন্ত চালিয়েছে।আর এই প্রতিটা ক্ষেত্রেই একজন সুস্থ মানুষের থেকেও বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে অ্যালান।সবকিছুতেই সেরা হয়ে উঠেছিল কেবল নিজের তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর প্রচেষ্টার জোরে।

উদ্যোক্তারা যখন সিরিজের এই গল্পটা পড়বেন তখন তারা অনুভব করবেন যে তাদের মধ্যেও অ্যালানের মতো আত্মবিশ্বাস বাসা বাঁধছে।আসলে এই গল্পগুলো প্রতিটা মানুষকে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি তাদেরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে।

একজন উদ্যোক্তা অ্যালানের জীবনের সুন্দর এই গল্পটি থেকে শিখবেন যে লোকে কিভাবে কাজ করতে বলছে কিংবা লোকে কি চাইছে সেটা সম্পূর্ণই লোকের বিষয়।অন্যদের ভাবনার সাথে মিলাতে গিয়ে নিজের কাজের ক্ষতি করা উদ্যোক্তার জন্য গর্হিত কাজ।

তাছাড়া এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, আশেপাশে যারা আছে তারা সবাই আপনার ভালো চাইবে এর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না মানুষের মন-মানসিকতা কেমন হতে পারে।সামনে হয়তো ভালো ব্যবহার করছে,কিন্তু আড়াল হলেই আপনার দোষ নিয়ে সমালোচনা করছে।

তাই নিজেকে মানসিক ভাবে শক্তিশালী করে তুলতে উদ্যোক্তাদের কিশোর ক্লাসিকস সিরিজটি অন্তত একবার করে হলেও পড়ে শেষ করা উচিত।কারণ উদ্যোক্তারা যদি নিজেদের বিজনেসে বাইরের মানুষের কথা শুনে কাজ করে কিংবা হতাশ হয়ে যায় তাহলে ঐসব নেগেটিভ মানুষদের নীচ উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়ে যাবে।

কিন্তু উদ্যোক্তারা যদি কাজের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছা এবং জ্ঞানকে গুরুত্ব দেয় তাহলে তাদের বিজনেসে ভালো করা খুব সম্ভব।আর এর জন্য অবশ্যই কিশোর ক্লাসিকসকে নিজের সাথী বানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন আছে।

নিয়মিত কিশোর ক্লাসিকস পড়া মানে হিউম্যান সাইকোলজি সম্পর্কে সচেতন হওয়া।এটি যেমন কাস্টমারদের মানসিকতা বুঝতে উদ্যোক্তাদেরকে সাহায্য করবে তেমনি টক্সিক মানুষদেরকে চিনে তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জনেও সহায়তা করবে।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং শিক্ষার্থী (মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ)

সিনথিয়া 

সর্বাধিক জনপ্রিয়