সফল যারা

‘আবায়া স্টোরি’-তে সফল  সিরাজুম মুনিরা 

মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

প্রকাশিত: ১৮:৩১, ২১ জুন ২০২২

‘আবায়া স্টোরি’-তে সফল  সিরাজুম মুনিরা 

‘আবায়া স্টোরি’-তে সফল  সিরাজুম মুনিরা 

শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করছিলেন সিরাজুম মুনিরা। এরপর ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে শুরু করেন নিজের উদ্যোগ ‘আবায়া স্টোরি’।

উদ্যোগ সামলিয়ে অনলাইনে গল্প বলার (স্টোরি টেলিং) প্রশিক্ষণও দেন। বর্তমানে তিনি ’আবায়া স্টোরি’র স্বত্বাধিকারী এবং ডিজাইনারের দায়িত্বপালন করছেন।

সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে সিরাজুম মুনিরার জন্ম ও বেড়ে উঠা। একারণে পরিবারের বাকিসব মেয়ে আর মায়ের মতোই আবায়া, হিজাব ও বোরখা ব্যবহারে অভ্যস্ত উঠেন। ইংরেজি সাহিত্যে লেখাপড়ার সময়ও বাদ দেন নি আবায়া, হিজাব ও বোরখার ব্যবহার। বরং নিজের মতো ডিজাইন করে তা ব্যবহার করতেন।

শিক্ষকতা ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মুনিরা বলেন, ইংরেজি সাহিত্যে লেখাপড়া শেষ করে স্থানীয় মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছিলাম। খুবই আনন্দের সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতাম। শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে ক্যারিয়ার বিষয়ক পরামর্শ পেতে ২০১৬ সালে যোগাযোগ করেছিলাম ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর তৎকালীন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজিব আহমেদ এর সাথে। তাঁর সাথে কাজ করে ই-কমার্স নিয়ে জ্ঞান অর্জন করেছিলাম। যা উদ্যোক্তা হতে দারুণ ভাবে সহায়ক হয়েছে।

ক্যারিয়ার এর মাঝপথে পারিবারিক সিদ্ধান্তে মুনিরা কে বসতে হয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে। ছেড়ে দিতে হয়েছিল ভালোলাগার পেশা টি। এরপর মুনিরার কোল আলোকিত করে একমাত্র কন্যা সন্তান। মেয়ের নিউমোনিয়াকালীন সময়ে হাতাশা হয়ে উঠেন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে। তাই আবারও পরামর্শ নেন ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সাবেক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজিব আহমেদ এর। তিনি আবায়া নিয়ে নিয়মিত ফেসবুকে লেখার উৎসাহ দেন।

অন্য পণ্য নিয়ে কাজ না করে আবায়া নিয়ে কাজ করছেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আসলে ছোটবেলা থেকে মা আর বড়বোন কে আবায়া, হিজাব ও বোরখায় দেখে আসছি। তাদের দেখাদেখি এসব পোশাকে ভালোলাগা সৃষ্টি হয়। তাই নিজেও ব্যবহার করতাম নিয়মিত। রাজিব ভাইয়ার কাছে যখন ক্যারিয়ার বিষয়ক পরামর্শ চেয়েছিলাম, তখন তিনি (রাজিব আহমেদ) বলছিলেন যেন নিয়মিত আবায়া নিয়ে গল্প লিখি। আমিও মনের আনন্দে তা করছিলাম। এসব পোস্ট দেখে কয়েকজন আবায়া ক্রয় করার আগ্রহ প্রকাশ করলে ভাইয়ার পরামর্শ আবায়া, বোরখা এবং হিজাব নিয়ে কাজ শুরু করি।'

অনলাইনে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু করছিলেন কিভাবে? তখন মুনিরা বলেন, 'আবায়া নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি অনেক উপভোগ করছিলাম। তা থেকে রাজিব ভাই বুঝতে পারলেন আমার মধ্যে গল্প বলার আগ্রহ ও অভিজ্ঞা আছে। তাই পরামর্শ দেন ইন্টারনেট স্টোরি টেলিং নিয়ে একবছর লেখাপড়া করার। আমিও টানা একবছর সর্বোচ্ছ সময় দিয়ে জ্ঞান অর্জন করেছি। বর্তমানে অনলাইনে কিছু উদ্যোক্তাদের প্রশক্ষিণ দিচ্ছি। তাদের উন্নতি নিজের চোখে দেখে অনেক ভালো লাগছে।'

এই উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে জানতে পারি, কোন প্রকার মার্কেটিং ব্যয় ছাড়াই নিয়মিত বিক্রি করছেন আবায়া, বোরখা ও হিজাব। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গৃহিণী পর্যন্ত সব শ্রেণির মেয়ে ও নারীরা মুনিরার ক্রেতা। তারা নিজে ব্যবহার করার পাশাপাশি উপহার দেন নিকটাত্মীয়দের। শতাধিক ক্রেতা আছেন যারা আবায়া স্টোরিতে কেনাকাটা করেন বার বার। এসব ক্রেতারা পণ্য ব্যবহারের পর ফেসবুকে রিভিউ দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

নিজের প্রোফাইলে নিয়মিত পণ্য ও ক্রেতাদের নিয়ে লিখছেন সিরাজুম মুনিরা। এটি পুরাতন ক্রেতাদের সম্মানিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতাদের মাঝে আস্থা ও আগ্রহ তৈরি করে। মুনিরা বিশ্বাস করেন অনলাইনে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর ক্রেতাদের নিয়ে নিয়মিত লেখার ফলে তারা সন্মানিত হন, সেই সাথে সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্সার লেখক ইপ্রফিট এবং স্বত্বাধিকারী, আওয়ার শেরপুর ডটকম। 

সিনথিয়া

সর্বাধিক জনপ্রিয়